জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬[১] – ৩০ মে ১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সমর্থনে একটি বিবৃতি পাঠ করেন।[২][৩] তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে। তবে মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন থাকার সময় সংবিধান লঙ্ঘন, শেখ মুজিবের আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশত্যাগে সহায়তা এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের অভিযোগে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) তার বীর উত্তম খেতাব বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়।[৪] তবে পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, তার খেতাব বাতিল করা হয়নি।[৫] বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন[৬][৭][৮] ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি চার বছর বাংলাদেশ শাসন করার পর ১৯৮১ সালের ৩০শে মে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে নির্মমভাবে নিহত হন। ২০০৪ সালে বিবিসি বাংলা পরিচালিত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জরিপে ২০ জন শ্রেষ্ঠ বাঙালির মধ্যে জিয়াউর রহমানের নাম ১৯ নম্বরে উঠে আসে।[৯]

জন্ম ও বংশ

জিয়াউর রহমান জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি তারিখে, ব্রিটিশ বেঙ্গলের বগুড়া জেলার নশিপুর ইউনিয়নের বাগবাড়ী গ্রামে মণ্ডল বাড়ীতে। তার পিতার নাম মনসুর রহমান এবং মাতার নাম জাহানারা খাতুন (রানী) ছিল। মণ্ডল পরিবারে তিনটি ছেলের মধ্যে জিয়াউর রহমান দ্বিতীয় ছিলেন। জিয়াউর রহমানের পিতা কলকাতা শহরে একটি সরকারি দপ্তরে রসায়নবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তার ডাক নাম ছিল “কমল”।

জিয়াউর রহমানের পূর্বপৈত্রিক নিবাস বগুড়ার মহিষাবান গ্রামে ছিল, তবে দাদা মৌলবী কামালুদ্দীন মণ্ডল (জন্ম ১৮৫৪) এর বিয়ের পর পরিবারটি বাগবাড়ী গ্রামে বাস করত। মৌলবী কামালুদ্দীন মণ্ডল ছিলেন কাঁকর মণ্ডল সাহেবের একমাত্র পুত্র এবং বাগবাড়ী মাইনর স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম ১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬
বাগবাড়ি, বাংলাপ্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
(বর্তমান বগুড়া, বাংলাদেশ)
মৃত্যু ৩০ মে ১৯৮১ (বয়স ৪৫)
চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
সমাধিস্থল জিয়াউর রহমানের মাজার
নাগরিকত্ব  ব্রিটিশ ভারত (১৯৪৭ সাল পর্যন্ত)
 পাকিস্তান (১৯৭১ সালের পূর্বে)
 বাংলাদেশ
রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
দাম্পত্য সঙ্গী খালেদা জিয়া
সন্তান তারেক রহমান
আরাফাত রহমান
প্রাক্তন শিক্ষার্থী ডি জে সায়েন্স কলেজ
পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি
কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ
জীবিকা সামরিক অফিসার, রাজনীতিবিদ
পুরস্কার বীর উত্তম,
হিলালে জুরাত
অর্ডার অব দ্য নাইল, সার্ক পুরস্কার
সামরিক পরিষেবা
আনুগত্য  বাংলাদেশ
 পাকিস্তান (১৯৭১ সালের পূর্বে)
শাখা  পাকিস্তান সেনাবাহিনী
Bangladesh Army seal বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
কাজের মেয়াদ ১৯৫৩–১৯৭১ (পাকিস্তান),
১৯৭১–১৯৭৯ (বাংলাদেশ)
পদ লেফট্যানেন্ট জেনারেল

শিক্ষাজীবন

জিয়াউর রহমানের শৈশবে কিছুকাল বগুড়ার গ্রামে এবং তারপর কলকাতা নগরে কাটল। ভারত বিভাগের পরে, তার পিতা পশ্চিম পাকিস্তানের করাচি নগরে চলে গেলেন। তখন জিয়া কলকাতার হেয়ার স্কুল ছেড়ে দেন এবং করাচি একাডেমি স্কুলে যোগ দেন। ঐ বিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৫২ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন এবং তারপর ১৯৫৩ সালে করাচিতে ডি.জে. কলেজে ভর্তি হয়েন। শিক্ষাজীবনে, উর্দু ও ইংরেজি ভাষায় শিক্ষাগ্রহণ করার সাথে সাথে তিনি বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারতেন, তবে সাবলিলভাবে বাংলা লিখতে ও পড়তে পারতেন না। ১৯৫৩ সালেই তিনি কাকুল মিলিটারি একাডেমিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ দিবাগত রাতে, পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর হামলা চালালেন। এই হামলার পরে, পশ্চিম পাকিস্তানের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হন। তার গ্রেফতার হওয়া পরে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার পরে, ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিক নেতৃবৃন্দ মুক্তিযুদ্ধ সংগঠন করার ঘোষণা করেন।

জনসভায় বক্তব্যরত জিয়া

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করে জিয়া প্রশংসিত হয়। ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে শেখ মুজিবুর রহমান ইতোপূর্বে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন ও সে ঘোষণা চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেন। চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান কালুরঘাট সম্প্রচার কেন্দ্র থেকে শেখ মুজিব প্রেরিত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের লিফলেট পাঠ করেছিলেন, যা পূর্বেই মাইকে প্রচার ও বিতরণ করা হয়েছিল। এই সময়, অনেকে নিয়মিত আয়োজনের অভাবে তাদের ঘোষণা শোনতে পেয়েছিলেন, কিন্তু বেতার কেন্দ্রের উদ্যোক্তাগণ পাহারার জন্য নিরাপত্তা পাইতে পারেননি। বেতার কেন্দ্রের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা বেলাল মোহাম্মদ বেতার কেন্দ্রের নিরাপত্তা পাহারার জন্য মেজর রফিকুল ইসলামকে সৈন্য পাঠাতে অনুরোধ করেন। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে তিনি তা করতে ব্যর্থ হয়ে গেলেন। এরপর, বেতার কেন্দ্রের উদ্যোক্তাগণ অসহায় বোধ করতে থাকেন। বেতার কেন্দ্রের উদ্যোক্তা বেলাল মোহাম্মদের দাবি, ঘোষণাপত্রের পাঠক হিসেবে জিয়া ছিলেন নবম। বেলাল মোহাম্মদের দাবি হল, ঘোষণাপত্রের পাঠক

হিসেবে জিয়া প্রথম। বেলাল মোহাম্মদের এ বক্তব্যকে অনেকে নিছক রসিকতা বলেও আখ্যা দেয়। মূলত, অনেকের ঘোষণার সময় নিয়মিত আয়োজনের সময় না হওয়ার কারণে তাদের ঘোষণা সীমিতসংখ্যক মানুষের দ্বারা শুনতে পেয়েছিল।

কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করার পর সম্প্রচার কেন্দ্রের উদ্যোক্তাগণ নিরাপত্তার অভাব বোধ করতে থাকেন। বেতার কেন্দ্রের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা বেলাল মোহাম্মদ পটিয়ায় সেনাছাউনিতে যান এবং কথাবার্তায় নিশ্চিত হন সেখানকার উচ্চপদস্থ সামরিক সদস্য মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধুর সাপোর্টার। বেলাল, জিয়াকে তাঁর সেনাছাউনি বেতার কেন্দ্রের কাছে স্থানান্তর করতে অনুরোধ করলে জিয়া রাজি হন এবং জিপ নিয়ে বেতার কেন্দ্রে যান।

২৭শে মার্চ ১৯৭১ সালে, মেজর জিয়া বেতার কেন্দ্রে একটি ঘোষণাপত্র পাঠিয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, যা তার অনুমোদিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রের একটি সংস্করণ। এই ঘোষণাপত্রে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে দাবি করেন যে তিনি বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারপ্রধান এবং Liberation Army Chief। তবে, এই ঘোষণা পরে কিছু বিতর্ক এবং ধোঁয়াশা উত্পন্ন হয়।

জিয়ার এই ঘোষণাপত্রের অনুমোদনের পরে, তিনি ২৮শে মার্চ এবং ২৯শে মার্চেও স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন, যাতে তিনি নিজেকে Provisional Head of Bangladesh এবং Liberation Army Chief হিসেবে বর্ণনা দেন। তাদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে দেওয়া বর্ণনা এই প্রকার:

“I Major Zia, on behalf of our great national leader Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, do hereby declare [the] independence of Bangladesh.”

এছাড়াও, জিয়ার এই ঘোষণা পাঠের সাথে তিনি সময়ের প্রথমে কোনো একটি কাগজপত্র পড়েন, যাতে সম্প্রচার কেন্দ্রের অন্য সদস্যরা আপনাকে অস্থায়ী সরকারপ্রধান হিসেবে দেখতে পান। তাদের এই অভিযানে সম্প্রচার কেন্দ্রের সদস্যরা একত্রিত হয় এবং তিনি নিজেকে অস্থায়ী সরকারপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করেন।

এই স্বাধীনতার ঘোষণা পথে বিতর্ক ও ধোঁয়াশা থাকে, কিন্তু মেজর জিয়ার ভূমিকা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং তিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব পরিচালনা করেন।মেজর জিয়া এবং তার সশস্ত্র বাহিনী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, রাঙ্গামাটি, মিরসরাই, রামগড়, ফেনী, ও অন্যান্য অঞ্চলে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে দ্বিধা বিশেষ দক্ষতা দেখানো হয় এবং তাদের সীমান্ত অতিক্রমণ করেন। ১৭ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে মেজর জিয়াকে ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার নিয়োক্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সমন্বয়ে মুক্তিবাহিনীর প্রথম নিয়মিত সশস্ত্র ব্রিগেড জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে কাজ করেন। তার দ্বারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে তার বীরত্বের জন্য তাকে বীর উত্তম উপাধি প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)

জিয়াউর রহমান
বাংলাদেশের ৮ম রাষ্ট্রপতি
কাজের মেয়াদ
২১ এপ্রিল ১৯৭৭ – ৩০ মে ১৯৮১

১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর জেনারেল জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়া এই দলের চেয়ারপারসন (Chairperson)। রাষ্ট্রপতি জিয়া এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন এবং এই দলের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। অধ্যাপক এ. কিউ. এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এর প্রথম মহাসচিব ছিলেন। জিয়ার এই দলে বাম, ডান ও মধ্যপন্থীসহ সকল স্তরের লোক ছিলেন। বিএনপির সব থেকে প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর নিয়োগ পদ্ধতি। প্রায় ৪৫% সদস্য কেবল রাজনীতিতে নতুন ছিলেন তাই নয়, তারা ছিলেন তরুণ। ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যাত্রা শুরু করেন। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণাপত্র পাঠ ছাড়াও প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের আহবায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে ১৮ জন সদস্যদের নাম এবং ১৯শে সেপ্টেম্বর ওই ১৮ জনসহ ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। এখানে উল্লেখ্য যে, বিএনপি গঠন করার আগে ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে আরেকটি দল উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে সভাপতি করে গঠিত হয়েছিল। ২৮শে আগস্ট ১৯৭৮ সালে নতুন দল গঠন করার লক্ষ্যে জাগদলের বর্ধিত সভায় ওই দলটি বিলুপ্ত ঘোষণার মাধ্যমে দলের এবং এর অঙ্গ সংগঠনের সকল সদস্য জিয়াউর রহমান ঘোষিত নতুন দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তিনি রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয়লাভ করে। নির্বাচনে অংশ নিয়ে আব্দুল মালেক উকিল এর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ৩৯টি ও মিজানুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২টি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ৮টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ১টি ও মুসলিম ডেমোক্রেটিক লীগ ২০টি আসনে জয়লাভ করে।

জিয়াউর রহমান এবং স্ত্রী খালেদা জিয়া, ১৯৭৯

 

আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন

জিয়া প্রবর্তিত উন্নয়নের রাজনীতির কতিপয় সাফল্য:

  • সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান।
  • জাতীয় সংসদের ক্ষমতা বৃদ্ধি।
  • বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়া।
  • দেশে কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা বিপ্লব ও শিল্প উৎপাদনে বিপ্লব।
  • সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি সহায়তার সমন্বয় ঘটিয়ে ১৪০০ খাল খনন ও পুনর্খনন।[৫৫]
  • গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তন করে অতি অল্প সময়ে ৪০ লক্ষ মানুষকে অক্ষরজ্ঞান দান।
  • গ্রামাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা প্রদান ও গ্রামোন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) গঠন।
  • গ্রামাঞ্চলে চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি বন্ধ করা।
  • হাজার হাজার মাইল রাস্তা-ঘাট নির্মাণ।
  • ২৭৫০০ পল্লী চিকিৎসক নিয়োগ করে গ্রামীণ জনগণের চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধিকরণ।
  • নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপনের ভেতর দিয়ে অর্থনৈতিক বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণ।
  • কলকারখানায় তিন শিফট চালু করে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি।
  • কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও দেশকে খাদ্য রপ্তানির পর্যায়ে উন্নীতকরণ।[৫৫]
  • যুব উন্নয়ন মন্ত্রাণালয় ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুব ও নারী সমাজকে সম্পৃক্তকরণ।
  • ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে সকল মানুষের স্ব স্ব ধর্ম পালনের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিকরণ।
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধন।
  • তৃণমূল পর্যায়ে গ্রামের জনগণকে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণ এবং সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে দেশ গড়ার কাজে নেতৃত্ব সৃষ্টি করার লক্ষ্যে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।[৫৫]
  • জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের আসনলাভ।
  • তিন সদস্যবিশিষ্ট আল-কুদস কমিটিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি।
  • দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ‘সার্ক’ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ গ্রহণ।
  • বেসরকারি খাত ও উদ্যোগকে উৎসাহিতকরণ।[৫৫]
  • জনশক্তি রপ্তানি, তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, হস্তশিল্পসহ সকল অপ্রচলিত পণ্যোর রপ্তানির দ্বার উন্মোচন।
  • শিল্পখাতে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রের সম্প্রসারণ।

মৃত্যু

জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে — তিনি সেনাবাহিনীতে তার বিরোধিতাকারীদের নিপীড়ন করতেন।] তবে জিয়া অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন। অনেক উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। বিপদের সমূহ সম্ভাবনা জেনেও জিয়া চট্টগ্রামের স্থানীয় সেনাকর্মকর্তাদের মধ্যে ঘটিত কলহ থামানোর জন্য ১৯৮১ সালের ২৯শে মে চট্টগ্রামে আসেন এবং সেখানে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে থাকেন। তারপর ৩০শে মে গভীর রাতে সার্কিট হাউসে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়া নিহত হন। জিয়াউর রহমানকে ঢাকার শেরে বাংলা নগরে দাফন করা হয়। প্রেসিডেন্ট জিয়ার জানাজায় বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগম ঘটে যেখানে প্রায় ২০ লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হয়

জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থল

জিয়াউর রহমানের সমাধি কমপ্লেক্স
অবস্থান শেরে বাংলা নগর, বাংলাদেশ

চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের সমাধির প্রবেশদ্বার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *